মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ

দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে জড়াতে পারে ইরান-ইসরাইল

ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের বৈরিতা নতুন কিছু নয়। তবে দুই দেশ একে অপরের প্রতি সরাসরি হামলা না করলেও গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তেহরানের সঙ্গে তেলআবিবের উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ইসরাইলের গুপ্ত হামলায় একের পর এক সামরিক কর্মকর্তাকে হারানোর পর গেল বছর প্রথমবারের মতো ইসরাইলে আক্রমণ করে ইরান।

এরপর থেকেই ইসরাইল ও ইরানের নিয়মিত বিরতিতে চলতে থাকে পাল্টাপাল্টি হামলা। এরই ধারায় শুক্রবার থেকে ইরানজুড়ে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও পরমাণু কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে চলমান সংঘাতের পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে গোটা বিশ্বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষের ভয়াবহতা নির্ভর করবে প্রধানত দুটো বিষয়ের ওপর। ইরান কতটা শক্তি নিয়ে কীভাবে শোধ নেবে এবং ইসরাইলের ওপর কতটুকু নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ধরে রাখবে। তবে, কোন কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সর্বাত্মক না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে দুই দেশ।

ইরানের ওপর যে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, তা নজিরবিহীন। শুরু থেকেই ইরানের দৃঢ় বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের মদদেই এই হামলা চালিয়েছে তারা। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তাদের কাছে হামলার কোন খবর ছিলো। তবে ইরান বলেছে, ইসরাইলের হামলা মানেই এর পেছনে সায় থাকবে আমেরিকার।

তবে, চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরাক, গালফসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালাতে পারে তেহরান। এরিমধ্য সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি। এতে, ইসরাইল বা মধ্যপ্রাচ্যে কোনও মার্কিন বা পশ্চিমা দেশের কেউ ইরানের হামলায় মারা গেলে, এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া, ইসরাইলের সাথে এই সংঘর্ষের জেরে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এই দেশগুলোতে মার্কিন বিমানঘাঁটি যেমন রয়েছে তেমনি কয়েকটি দেশ গতবছর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইসরাইলকে গোপনে সাহায্য করেছে বলেও শোনা যায়।

যদি ইরান এই দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে বসে, তবে নিরাপত্তার জন্য তারাই যুদ্ধবিমান নিয়ে মার্কিন বাহিনীকে আসার জন্য আহ্বান জানাবে।

এই সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আরও বেপরোয়া হতে পারে ইরান। দেশটির কাছে কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত চারশ’ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। শনিবার হামলার পর এক ইসরাইলি এক কর্মী দাবি করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলতো ইরান।

ইরান যদি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একমাত্র উপায় হিসেবে পারমাণবিক বোমা বানানোই সমাধান মনে করে, সেক্ষেত্রে ইরানের পারমাণবিক শক্তি হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম প্রভাবক হবে ১৩ জুনের ইসরাইলি হামলা। ইসরাইলি হামলার লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া। তবে, সেটা নাহলে নিয়মিতভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে পারে ইসরাইল, যেন তারা কখনই পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি গড়ে তুলতে না পারে।

আরও পড়ুন