মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ

তিন সেকেন্ডে একযোগ বন্ধ হয় এয়ার ইন্ডিয়ার জ্বালানি সুইচ: রিপোর্ট

গত ১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হন। এই ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন এবং মাটিতে ১৯ জন মারা যান। ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেকঅফের তিন সেকেন্ড পর বিমানের ইঞ্জিনের জ্বালানি সুইচগুলো ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’ অবস্থায় সরানো হয়, যার ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমানটি তাৎক্ষণিকভাবে ওপরে ওঠার শক্তি হারায়।.

শনিবার (১১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানা গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ভারতের তদন্তে সহযোগিতার জন্য প্রশংসা করেছে। তদন্তে সহযোগিতা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিমানটি টেকঅফের পর ৬৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু এরপর দ্রুত নিচে নেমে একটি ভবনে আছড়ে পড়ে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই পাইলটের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। একজন পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেন জ্বালানি বন্ধ করা হলো’, যার জবাবে অন্য পাইলট বলেন, ‘তিনি তা করেননি।’

ইঞ্জিনের জ্বালানি কাটঅফ সুইচগুলোতে দুর্ঘটনাজনিত স্থানান্তর রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও এই সুইচগুলো উড়ানের সময় ‘কাটঅফ’ অবস্থায় সরানো অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিমান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন কাজ ইঞ্জিনকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়। তদন্তে ইঞ্জিনে আগুন বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা এই পদক্ষেপকে সমর্থন করতে পারতো।

এএআইবি-এর প্রতিবেদনে বোয়িং ৭৮৭ বা এর জিই এরোস্পেস জিইএনএক্স-১বি ইঞ্জিনে কোনো যান্ত্রিক বা নকশাগত ত্রুটির তাৎক্ষণিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বোয়িং বা জিই-এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলে সুইচগুলো ‘রান’ অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা তদন্তের জটিলতা বাড়িয়েছে। এছাড়া বিমানের র‍্যাম এয়ার টারবাইন সক্রিয় হয়েছিল, যা ইঞ্জিনের শক্তি হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

এএআইবি’র প্রতিবেদনে বোয়িং বা জিইএনএক্স-১বি ইঞ্জিনের প্রস্তুতকারক জিই এরোস্পেসের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়া একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। বোয়িং জানিয়েছে, তারা এয়ার ইন্ডিয়া এবং তদন্তকারীদের সহায়তা করছে। তবে জিই এরোস্পেস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের জন্য সাড়া দেয়নি। তদন্তে ভারত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা অংশ নিচ্ছেন।

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই১৭১-এর দুর্ঘটনা গত এক দশকের সবচেয়ে মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা। জ্বালানি সুইচগুলোর অস্বাভাবিক চলাচল এবং ককপিটে পাইলটদের বিভ্রান্তি তদন্তকারীদের জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এটি ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত বা অন্য কোনো অজানা কারণে হয়েছে কিনা তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যাতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। শোকার্ত পরিবারগুলো এখন ন্যায়বিচার এবং উত্তরের অপেক্ষায়।

আরও পড়ুন