হোয়াইট হাউজে দুই দফা বৈঠকের পর মুখ খুললেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি আশা করেন, হামাসের সঙ্গে জিম্মি মুক্তির একটি চুক্তি কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে।
শুক্রবার টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সের গ্রেটা ভ্যান সাস্টারেনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আশা করছি চুক্তিটি আমরা কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবো।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে প্রথম ধাপে ১০ জন জীবিত এবং ১৮ জন মৃত জিম্মি মুক্তি পাবেন। এই ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হবে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, যদি হামাস সমর্পণ করে তবে এই যুদ্ধ আজই শেষ হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো এই দানবদের পরাজিত করা এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা।
২০২৩ সালের সাত অক্টোবর হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। বর্তমানে ৫০ জন জিম্মি এখনও হামাসের হাতে রয়েছে, যার মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চুক্তির অধীনে, হামাসই সিদ্ধান্ত নেবে কোন জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে, ইসরায়েলের শর্ত হলো হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। নেতানিয়াহু বলেছেন, যদি ৬০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিকভাবে সমাধান না হয়, তবে ইসরায়েল সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তার লক্ষ্য অর্জন করবে।
টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যস্থতাকারীদের আশ্বাস দিয়েছে যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলকে গাজায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে দেওয়া হবে না, যদিও এটি চুক্তির লিখিত শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এটি আলোচনার একটি প্রধান বাধা। হামাস একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি করছে, যা নেতানিয়াহু বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে জিম্মিদের পরিবারগুলো নেতানিয়াহুর উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে জিম্মি পরিবারের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, ইসরাইলের জন্য সব জিম্মিই ‘মানবিক’ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, এবং কোনো গ্রুপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না। তবে, হারেতজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিম্মিদের অবস্থা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুক্তির ক্রম নির্ধারণ করবে।
নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের দুই নিহত কর্মচারী ইয়ারন লিশচিনস্কি এবং সারা মিলগ্রিমের স্মরণে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা বলেছেন, ইসরাইলের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হবে হয় কূটনৈতিকভাবে, নয়তো সামরিক শক্তির মাধ্যমে।
নেতানিয়াহুর এই আশাবাদ সত্ত্বেও আলোচনায় এখনও বাধা রয়েছে। বিশেষ করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে। জিম্মি পরিবারগুলো এবং ইসরায়েলি জনগণ এখন অপেক্ষায় রয়েছে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে কিনা।
