মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ

নেপালে জানমাল ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলো সেনাবাহিনী

নেপালে চলমান সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে বিক্ষোভকারীদের আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগডেল। পাশাপাশি অস্থিরতা না কমায় নেপালের নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধানের আগে, নেপালের প্রেসিডেন্টও আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট উত্তরণে বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই জানা যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন দেশটির সেনা প্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল। রাতে দেয়া ভাষণে বিক্ষোভকারী জেন-জি নেতাদের প্রতি শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহবান জানান তিনি।

জেনারেল সিগদেল বলেন, জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সবার।

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করা এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানো আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য, সরকারি, বেসরকারি সম্পত্তি, সাধারণ জনগণ ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশকে এই খারাপ পরিস্থিতি থেকে বের করতে হবে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি আমার আহ্বান, বিক্ষোভের পরিকল্পনা বাদ দিন। আলোচনায় আসুন।

তারপরও সংঘাত বন্ধ না হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যরা দেশটির বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেন। নেপালের প্রতিরক্ষা জনসংযোগ অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, কিছু গোষ্ঠী এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতি করছে।

নেপালে বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে সতর্কবার্তা দিয়েছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার এক বিবৃতি দিয়ে সেনাবাহিনী বলেছে, চলমান সংকটজনক পরিস্থিতির সুযোগে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে নেপালি সেনাবাহিনীসহ সব নিরাপত্তা সংস্থা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে, এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কাঠমান্ডুর মেয়র ও র‌্যাপার-ইঞ্জিনিয়ার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহ। তিনি ‘বালেন’ নামেই জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে প্রধানমন্ত্রী করার দাবি উঠেছে জোরেশোরে। সোমবার রাতে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে অনলাইনে ‘বালেন ফর পিএম’ দ্রুত ট্রেন্ডে উঠে আসে।

 

আরও পড়ুন