পিএসএল খেলতে শনিবার পাকিস্তান পৌঁছেছেন সাকিব আল হাসান। তার দল লাহোর কালান্দার্সের করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ছবিতে মি অলরাউন্ডার ধরা দিয়েছেন বেশ হাসিখুশি অবতারে। ক্রিকেটের ফেরার স্বস্তিই যেন আলো হয়ে ফুটে ছিল সাকিবের চোখে মুখে।
গায়ে কালো জ্যাকেট, আর মাথায় কালো ক্যাপ, মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করার ভাবনা থেকেই হয়তো থাম্বস আপে ইশারা করলেন অল গুড!
যে খেলায় মজে কাটিয়ে দিলেন এক জীবনের বড় একটা সময়, তাতে ফেরার খুশি যেন ততক্ষনে আলো হয়ে ঠিকরে বেরোতে শুরু করেছে সাকিবের চোখমুখ থেকে, পিএসএল খেলতে পাকিস্তানে পৌছে যাওয়া সাকিবের এমনি ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করেছে তার দল লাহোর কালান্দার্স।
অসময়ের দশ ফোড়ে আটকে পড়া লাল-সবুজের জার্সিতে দুনিয়া কাঁপানো নবাবের পিএসএল উপলক্ষে ক্রিকেটে ফেরা যে তার ডুবন্ত ক্যারিয়ারের নৌকার পালে খানিকটা হলেও বয়ে এনেছে আশার এক পশলা ঝড়ো বাতা।স
দে মিন বিজনেস- সাকিবসহ বাকিদের নিয়ে করা কালান্দার্সের সোশ্যাল মিডিয়া ওই পোস্টের এক লাইনে, এভাবেই যেন প্লেয়ারদের লক্ষ্যে অটুট থাকার সংকল্পটা বোঝাতে চাইলো ফ্রাঞ্চাইজিটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জাতীয় দলের দরজা থেকে সরে যাওয়াটা মিস্টার সেভেনটিভ ফাইভের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, যে ব্যাপারটা কন্ট্রোলের রিমোট তার হাতে ছিল সেই ফিটনেস আর নিজের ক্রিকেটটাতে জং পড়তে না দেওয়ার ব্যাপারটায় যে সাকিব মিনস বিজনেস; তা এতদিন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে পা না রেখেও ফিজিক্যালি হালকা পাতলা ঝরঝরে থাকাটায়,বোঝা গেলো স্পষ্ট।
বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণার পর সে দায় থেকে মুক্তি পেতে যে পরিশ্রম শুরু করেছিলেন তা দায়মুক্তির পরও না থামানোতেই হয়তো নিজেকে রাখতে পেরেছেন ক্রিকেট রেডি। যে কারণে রিশাদের বিকল্প হিসেবে ডাক পেতেই হাজির হয়েছেন পিএসএল মাতাতে কালান্দার্স শিবিরে।
এর আগেও সাকিব পিএসএল খেলেছেন পেশওয়ার জালমি আর করাচি কিংসে মত দলের হয়ে। এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সুপার লিগে ১৩ ইনিংস ব্যাট করে রান করেছেন ১৮১, গড় প্রায় ১৭। অন্যদিকে বল হাতে ১২ ইনিংসে উইকেট তুলেছেন ৮ টি, ইকোনমি প্রায় সাড়ে ৭।
ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় পশ্চিমাকাশে ঝুলে থাকা এই নক্ষত্র, ক্রিকেটে ফেরাটা পিএসএলের মাধ্যমে রাঙাতে পারলে তা হবে নক্ষত্রের শূন্যতায় মিলিয়ে যাওয়ার আগে, সুপারনোভা আবেগে মহাবিশ্বের প্রতিটি কোনা আলোকিত করার তাড়না। আর যদি ফেরাটা বিবর্নই হয়, তবুও সাকিবের ক্রিকেটীয় গৌরব কমবেনা একটুও, বরং যতদিন আছে ধ্রুবতারা, রাতের আকাশের সেদিকটাতে চেয়ে পাওয়া অকারণ আনন্দের উপলক্ষ্য হয়ে রইবেন।
